নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী আপনাদের সামনে ফজরের নামাজের উপকারিতা ও ফজিলত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরতে চাই।
“ওয়া মা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ।”
ঈমানের পর ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বারবার নামাজ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন স্থানে সরাসরি ৮২ বার ‘সালাত’ শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। নিচে ফজরের নামাজ আদায়ের ১০টি উপকারিতা ও ফজিলত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। এগুলো জানার পর ইনশাআল্লাহ, কারও ফজরের সালাতের প্রতি গাফিলতি বা অলসতা থাকবে না।
ফজরের সালাত মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুনাফিকদের জন্য ফজরের সালাত আদায় করা অত্যন্ত কষ্টকর।
(সহিহ বুখারি: ৬৫৭, ৬৪৪, ২৪২০, ৭২২৪; সহিহ মুসলিম: ৬৬১)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে ওই দিন আল্লাহর জিম্মায় থাকে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালা তার দায়িত্ব ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
(সহিহ মুসলিম; জামে তিরমিজি: ২১৮৪)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, আল্লাহর ফেরেশতারা তার পক্ষে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করে, সে বিশেষ সওয়াব লাভ করে।
(সহিহ মুসলিম: ১০৯৬)
যে ব্যক্তি ভোরে হেঁটে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে যায়, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে পরিপূর্ণ নূর দান করবেন।
(সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪)
ফজরের সালাত আদায়কারী জান্নাতের মহান নিয়ামত লাভ করবেন। জান্নাতে আল্লাহর দিদার লাভ করা হবে মুমিনদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত।
(সহিহ বুখারি: ৫৭৩)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ফজর ও আসরের সালাত আদায় করে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
(সহিহ মুসলিম: ৬৩৪)
ফজরের সালাত আদায়কারী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বরকতের দোয়া লাভ করেন।
(সুনানে আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ)
ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ দুনিয়া এবং দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও উত্তম।
(জামে তিরমিজি: ৪১৬)
ফজরের সালাত আদায়ের ফলে মানুষের মন প্রফুল্ল ও সতেজ থাকে। দিন শুরু হয় আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের মাধ্যমে, যা মানুষের অন্তরে প্রশান্তি ও কর্মস্পৃহা সৃষ্টি করে।
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
পরিশেষে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে নিয়মিত ফজরের সালাত আদায়ের তাওফিক দান করেন এবং এর মাধ্যমে উল্লিখিত সব নিয়ামতের অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেন।
আমিন।
লেখক:
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট।
সাবেক ইমাম ও খতিব, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট।
সাবেক প্রিন্সিপাল, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট।
সাবেক প্রধান শিক্ষক, হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
মন্তব্য করুন