টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জুয়ার আসরে মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত কোরাইনা আলী (৬৩) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাড়ি ফেরার পর মারা গেছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত কোরাইনা আলী কালিহাতী উপজেলার রামপুর বিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের দড়ি খশিলা দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি জুয়ার আসরে কোরাইনা আলীকে মারধর করা হয়। জুয়ার বোর্ডের টাকা চাওয়া এবং পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম (ধলা), রফিকুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান শাহী ও মো. লিটন নামে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তারা ওই জুয়ার বোর্ড পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
মারধরের পর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় কোরাইনা আলীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৪ আগস্ট উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে একদিন আইসিইউতে রাখা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ৫ আগস্ট তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নিজ বাড়িতে কোরাইনা আলী মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে কালিহাতী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম শুরু করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন