মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি আর সন্তানদের এগিয়ে নিতে মায়েদের নীরব ত্যাগের সম্মান—দুইয়ের মেলবন্ধনে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আমোদপুর। কৃতি শিক্ষার্থী ও তাদের সাফল্যের পেছনে থাকা মায়েদের সম্মান জানাতে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, আমোদপুর’।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুর ইউনিয়নের আমোদপুরে সংগঠনটির কার্যালয় চত্বরে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণির ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তানদের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মায়েদেরও বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, আমোদপুর’-এর সভাপতি গাজী মোস্তাকিম। প্রধান অতিথি ছিলেন ভৈরবে প্রতিষ্ঠিত আরাফাত কেমিক্যাল ওয়ার্কস (বস্ মশার কয়েল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাপ্তাহিক সোনালী ধারা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও দৈনিক এশিয়া বাণী পত্রিকার কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি শিক্ষানুরাগী মো. ইয়াছিন আরাফাত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ইউনিয়ন আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এ ছাড়া আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির, আমোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম কাজল, সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়াসহ এলাকার সুধীজন, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, মেধাবীদের পথচলাকে আরও সুগম করতে এ ধরনের স্বীকৃতি সময়ের দাবি। তবে সন্তানদের অর্জনের পেছনে মায়েদের যে নীরব ত্যাগ ও পরিশ্রম থাকে, সেটিকে প্রকাশ্যে সম্মানিত করার উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে।
আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানটি শুধু কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, আমোদপুর’ দীর্ঘদিন ধরে অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসামগ্রী প্রদান, মানবিক সহায়তা, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের সাফল্যের পেছনে থাকা মায়েদের সম্মান জানানো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
মন্তব্য করুন