“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং তারিখ শনিবার বেলা ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (MIPS) প্রকল্পের উদ্যোগে এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO)-এর অর্থায়নে সভাটি বাস্তবায়িত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিএফজি কো-অর্ডিনেটর ও পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতা ফারুক হোসেন সামাদ। সভাটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিন ফকির।
সভাপতির বক্তব্যে ফারুক হোসেন সামাদ বলেন, “সংঘাত পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে ভিন্নমতকে সম্মান করার মানসিকতা আমাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিরোধ যেন সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো সম্ভাব্য বিরোধ বা উত্তেজনা দেখা দিলে তা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পিএফজি-এর সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিলে মোরেলগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহাবস্থানমূলক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।”
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এম. কে. আজিজ, মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহেল রায়হান, ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ খান, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা, ইমাম মনিরুজ্জামান হাওলাদার, পুরোহিত গোবিন্দ কুমার চক্রবর্তী, সাংবাদিক শেফালী আক্তার রাখি ও কলি আক্তারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা পর্বে বক্তারা মোরেলগঞ্জ উপজেলায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধে দল-মত-নির্বিশেষে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহনশীলতা ও নিয়মিত সংলাপের বিকল্প নেই। সম্ভাব্য বিরোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘাতে রূপ নেওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ সময় নিয়মিত শান্তিবিষয়ক কার্যক্রম, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পিএফজি-এর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সমগ্র সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস (MIPS) প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির।
মন্তব্য করুন