মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ঘসিয়াল গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. সৈয়দ আলী (৭১) নামে এক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নাজমুল শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। হামলায় ওই বৃদ্ধের হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘসিয়াল গ্রামের নাজমুল শেখ শনিবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আলীর বাড়িতে গিয়ে মাদক সেবন করেন বলে অভিযোগ। এর আগে ওই বৃদ্ধের বাড়ি থেকে একটি মোটর চুরির অভিযোগও রয়েছে নাজমুলের বিরুদ্ধে।
বাড়িতে বসে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় পরদিন রোববার সকালে সৈয়দ আলীকে প্রথম দফায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে নাজমুল সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ আলীর দুই ছেলে ঢাকায় থাকেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এরই জের ধরে সোমবার দুপুরে সৈয়দ আলী নাজমুলের বাড়ির সামনে গড়াই নদীতে গোসল করতে গেলে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া নাজমুল শেখ, তাঁর বাবা আমিন শেখ, মা নাসিমা বেগম ও ছোট ভাই ইমরুল শেখ তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তাঁর হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সৈয়দ আলীকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৈয়দ আলী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, “এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে নাজমুল শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন