বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের বড় সন্ন্যাসী হাজি পাড়া এলাকায় এন. আমিন হেলথ জোন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারের নতুন শাখার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও আধুনিক করার লক্ষ্য নিয়ে এই ফিজিওথেরাপি সেন্টারটি যাত্রা শুরু করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মো. আব্দুল আলিম হাওলাদার। তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা হওয়ায় সাধারণ মানুষ অল্প খরচে উন্নত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজাহারুল ইসলাম (সাজু)। তিনি বলেন, এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার পরিসর বাড়ানো সময়ের দাবি ছিল। নতুন এই সেন্টারটি সেই ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল, রামপাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এম. এ সবুর রানা, বাঁশতলি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আজমী, বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ), উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিদ্যুৎ কুমার পাল, মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান পলক এবং ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ইমরান হোসাইন হাওলাদার। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে এই সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এটি সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বর্তমানে বিভিন্ন জটিল রোগ যেমন প্যারালাইসিস, জয়েন্ট পেইন, স্নায়ুবিক সমস্যা ও দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। তাই গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের সেবা কেন্দ্র স্থাপন জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখবেন সহকারী ফিজিওথেরাপিস্ট অলোক কুমার পাল। তিনি জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ সেবার মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং রোগীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা নতুন এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এর সফলতা কামনা করেন।
মন্তব্য করুন