মাগুরায় জমজমাট লড়াই ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী তৃতীয় টেনিস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন (টিএলএ) প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার শেষ দিনে অনূর্ধ্ব-৪৫ ও ৪৫ ঊর্ধ্ব—দুই ক্যাটাগরির ফাইনালে জয় পেয়েছে খুলনা ও ঢাকা জেলা দলের দুই জুটি।
অনূর্ধ্ব-৪৫ ক্যাটাগরিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনার রাকিব-আলাউদ্দিন জুটি। অন্যদিকে ৪৫ ঊর্ধ্ব ক্যাটাগরিতে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ঢাকা জেলা দলের মাজেদ-রাজা জুটি।
রোববার রাতে জেলা টেনিস ক্লাব ও ইনডোর স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার শেষ দিনে দুই ক্যাটাগরির সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
৪৫ ঊর্ধ্ব ক্যাটাগরির ফাইনালে ঢাকা জেলা দলের মাজেদ-রাজা জুটি ৮-৬ ব্যবধানে গোপালগঞ্জ জেলা দলের হামিম-সাধন জুটিকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে অনূর্ধ্ব-৪৫ ক্যাটাগরির ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন খুলনার রাকিব-আলাউদ্দিন জুটি ৮-২ ব্যবধানে নাটোর জেলা দলের সুমন-কমল জুটিকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়।
এর মধ্য দিয়ে টিএলএর দ্বিতীয় আসরের ফাইনালেরও পুনরাবৃত্তি হলো। আগের আসরেও অনূর্ধ্ব-৪৫ ক্যাটাগরির ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল খুলনার রাকিব-আলাউদ্দিন ও নাটোরের সুমন-কমল জুটি। সেবারও শিরোপা জিতেছিল রাকিব-আলাউদ্দিন জুটি।
টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের পর রাকিব বলেন, মাগুরা ইতোমধ্যে টেনিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে পরিণত হয়েছে। একটি জেলা শহরে এমন টেনিস অবকাঠামো প্রশংসনীয়। খেলোয়াড়রা মাগুরায় আসার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। মাগুরা তার জন্য ‘লাকি ভেন্যু’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৪৫ ঊর্ধ্ব ক্যাটাগরির চ্যাম্পিয়ন রাজা বলেন, তিনি ঢাকা জেলা দলের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও তার বাড়ি মাগুরায়। ফাইনাল দেখতে তার পরিবারের সদস্যরা গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। নিজ জেলায় শিরোপা জয় তার জন্য সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা টেনিস ক্লাবের সভাপতি মোতাকাব্বির আহমেদ।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব আলী আহমেদ, সাবেক ক্রীড়াবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আহসান হাবীব কিশোর, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এবং টেনিস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খান আবুল হোসেন এবং মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মাগুরা টেনিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও টেনিস খেলোয়াড় শফিকুল ইসলাম শফিক এবং মাগুরা জেলা দলের খেলোয়াড় কাঞ্চন কুন্ডু।
টেনিস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের এ পর্যন্ত তিনটি দেশব্যাপী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুবারই ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মাগুরাকে।
প্রতিযোগিতাকে ঘিরে শুধু কোর্টেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা টেনিস খেলোয়াড়, সংগঠক ও ক্রীড়ানুরাগীদের মিলনমেলাও সৃষ্টি হয় মাগুরায়।
মাগুরায় দেশের একমাত্র টেনিস ইনডোর গ্রাউন্ড থাকায় খেলোয়াড় ও আয়োজকদের মধ্যে এ জেলায় প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় টিএলএর তৃতীয় আসরের ভেন্যু হিসেবেও মাগুরাকে বেছে নেওয়া হয়।
টুর্নামেন্টের সার্বিক আয়োজনে ছিল টেনিস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন। জেলা প্রশাসন, মাগুরার তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা টেনিস ক্লাবের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর মিডিয়া পার্টনার ছিল মাগুরা প্রেসক্লাব।
প্রতিযোগিতায় স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন আরিয়ানের হেলমেটের স্বত্বাধিকারী আরিফ হাসান, খান ওয়ারিয়র্স ক্লাবের উপদেষ্টা খান আবুল হোসেন, জেলা টেনিস ক্লাবের সদস্য ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী হাসান এবং ব্যবসায়ী ও টেনিস খেলোয়াড় ফায়সাল আহমেদ সুমন।
জেলা টেনিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির মুক্ত মাগুরার পক্ষ থেকে আগত অতিথি, খেলোয়াড়, সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সবার জন্য সর্বোচ্চ আতিথেয়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও বড় এই আয়োজন সফলভাবে শেষ করতে পারাকে তিনি মাগুরার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
এবারের আসরে মাগুরা জেলার সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে ৪৫ ঊর্ধ্ব ক্যাটাগরিতে। এ বিভাগে মাগুরার শোভন-মুক্ত জুটি সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছে। তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা পরাজিত হয়।
দেশের বিভিন্ন জেলার শীর্ষ টেনিস খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক মাগুরার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও সাফল্য স্থানীয় টেনিস অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন