বাগেরহাটের রামপালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বন্দবস্ত জমি দখল নিতে মৎস্য ঘেরে লুটপাট ও হামলা করে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিকার পেতে বাগেরহাট বিঞ্জ আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। জেল হাজত থেকে জামিনে এসে দিচ্ছেন ধর্ষণ ও হামলার হুমকি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরবর্তীতে করা হয়েছে রামপাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডিও)।
সরেজমিনে গিয়ে ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কাস্টবাড়িয়া গ্রামে ৮৯ সালে ২৪ টি অসহায় পরিবারকে বন্দোবস্ত দেয় তৎকালীন এরশাদ সরকার। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর সরকারের দেওয়া নিয়মনীতি মেনে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে রয়েছে ওই পরিবারগুলো। বর্তমানে সেখানে প্রায় শতাধিক পরিবার গড়ে উঠে বসবাস করছে তারা।
প্রতিপক্ষরা ওই জমি দাবি করে ২০১৮ সালে মো. জাকারিয়া, মো. মোজাদ্দেদ, মো.শাহাদাৎ, মো. নূরুল ইসলাম, মো. ওয়ালিউল্লাহ, সুরাইয়া বেগম ও নূর নাহার বেগম বাগেরহাট ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদী হয়ে একটি রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেন। অথচ মামলা নিষ্পত্তি না হতেই জোরপূর্বক দখলীয় বন্দোবস্ত জমি দখল নিতে পরিকল্পিতভাবে চালিয়েছে হামলা। এতে হামিদা (৫০), জোছনা (৩২)সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে। এরপর তাদের মৎস্য ঘেরে লুটপাট করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় দুলক্ষ টাকার মাছ। অসহায় পরিবারগুলি প্রতিকার পেতে বাগেরহাট বিঞ্জ আদালতে ১৬ সেপ্টেম্বর মো. কামাল শেখ, মো. বিল্লাল শেখ, তোফাজ্জেল শেখ, শহাদত হোসেন, মো. মুকুল শেখ, শফরুল গাজী, হাকিম শেখ, সোনামিয়া শেখকে আসামি করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করেন একটি মামলা। ওই মামলায় উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের উপর হামলা করেছে। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আসামি মো. বিল্লাল শেখ কুড়াল দিয়ে জোসনা বেগমের পায়ে কোপ দিলে পা কেটে যায় এবং ৭টি সেলাই লাগে। হামলায় রুপা বেগমকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে তারা। এছাড়াও স্বর্ণের মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ওই ঘটনায় মো. কামাল শেখ, তোফাজ্জেল শেখ ও মে. মুকুল শেখ কে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে ছাড়া পেয়ে আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পূণরায় হামলার পরিকল্পনা করে। এসময় ভুক্তভোগী হানিফ গাজী হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট বিঞ্জ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রিট আদালতে শফরুল গাজী, মো. মুকুল শেখ, জুলফিকার আলী শেখ, সোনা মিয়া শেখ, মো. নূরুল শেখ, মো. কামাল শেখ, তোফাজ্জল শেখ, শাহাদত হোসেন, বিল্লাল শেখ, ইমরান হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের আবারো হুমকিসহ দিচ্ছেন বিভিন্ন ভয়ভীতি। এতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পূণরায় জোসনা বেগম বাদী হয়ে রামপাল থানায় ১০ অক্টোবর একটি জিডি করে। এতে প্রতিপক্ষরা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে দেন ধর্ষণের হুমকি। বারবার অসহায় পরিবারের উপর নির্যাতন ও হামলায় তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। বন্দবস্তর দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসব বিষয়ে অভিযুক্তদের ভাই মো. নুরুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমাদের জমি তারাই জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। তবে বাটোয়ারা মামলা নিষ্পত্তি না হতেই কেনো জোরপূর্বক জমি দখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
মন্তব্য করুন