মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও প্রায় ২০ একর ফসলি জমি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে নদীভাঙনের তীব্রতায় গ্রামের প্রতিরক্ষামূলক বেড়িবাঁধের কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধের আরও অংশ ভেঙে গিয়ে কোদলা গ্রামের অন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এসব জমির ওপরই নির্ভরশীল ছিল বহু পরিবারের সারা বছরের আয়-রোজগার। চোখের সামনে ফসলি জমি নদীতে বিলীন হতে দেখে অনেক পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও অন্তত ২০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙনের কবলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কোদলা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী মোকাররম আলী বলেন, “নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। এখানে আমাদের এলাকার অনেকের অনেক জায়গা-জমি ছিল। নদী ভাঙতে ভাঙতে বেড়িবাঁধের কাছে চলে এসেছে। আর হাত দুয়েক বেড়িবাঁধ ভাঙলে আমরা অনাহারে মারা যাব।”
একই গ্রামের অনিতা রাণী বলেন, “আমার বাবার বাড়ি নদীর ওপারে। বিয়ের পর ৩৫ বছর ধরে আমি এই গ্রামে বাস করছি। একসময় এই এলাকার মানুষ এখানে চাষাবাদ করত, গরু-ছাগল বাঁধত। ছেলেরা মাঠে খেলত। এখন সেসবের অনেকটাই নদীর মধ্যে চলে গেছে।”
কোদলা গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, “রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারি না। সব সময় আতঙ্কে থাকি। ঘুমের মধ্যে কখন যেন নদী আমাদের ডুবিয়ে দেয়—সেই ভয় হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে গ্রামের বিপুলসংখ্যক পরিবার পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, “আমলসার ইউনিয়নের কোদলা এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি। সেখানে কাজ করার অনুমতি পেলে দ্রুত কাজ শুরু করব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা গড়াই নদীর ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন