জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট একটি “উচ্চাভিলাষী বাজেট”, যার বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা রয়েছে। বাজেটে উন্নয়নের নানা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাজেটে কার্যকর উদ্যোগের উল্লেখ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো সাধারণত নিজেদের সাফল্যের দিকগুলোই বেশি দেখে এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যার কথা শুনতে আগ্রহী থাকে না। অনেক সময় সরকারের আশপাশের সুবিধাভোগী নেতাকর্মীরা বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার পরিবর্তে শুধু প্রশংসা করতেই ব্যস্ত থাকেন। ফলে জনগণের প্রয়োজন ও বঞ্চনার বিষয়গুলো আড়ালে থেকে যায় এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকারের দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাট-বাজার, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে দেশের উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না এবং জনগণের কল্যাণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।”
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ও নানা ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। অনেক ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও অসংখ্য ঘটনা অজানাই থেকে যায়। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এটিএম আজহার বলেন, উন্নয়নের নামে নানা দাবি করা হলেও বাস্তবে এখনও অনেক এলাকার সড়ক অবকাঠামো অনুন্নত অবস্থায় রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব এবং দুর্নীতির কারণে জনগণ প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মানুষের কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী ঘুষ, দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা আমির কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, উপজেলা প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এই সংস্করণটি পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা প্রেস রিলিজে প্রকাশের উপযোগী করে লেখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন