মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের কিয়াতলা গ্রামে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একের পর এক দুই ভাইকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে বিষাদের আবহ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিয়াতলা গ্রামের মরহুম সাতির আলীর দুই ছেলে ছয়ফুল আহমদ (৫৫) ও কয়েস আহমদ (৪৬) দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে প্রবাসজীবন কাটালেও জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে আসেন তারা।
ছোট ভাই কয়েস আহমদ দেশে ফিরে কুলাউড়া পৌর শহরের বসির প্লাজায় ‘সামিরা অ্যান্ড সামিয়া কসমেটিকস গ্যালারি’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ মে তিনি ইন্তেকাল করেন।
ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এলেও সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় আঘাত আসে। বড় ভাই ছয়ফুল আহমদ, যিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার পর অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তিনিও চার দিনের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন। বুধবার (২৮ মে) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরপর দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কিয়াতলা গ্রামের পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, দুই ভাই ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন, পরোপকারী ও সামাজিকভাবে সুপরিচিত ব্যক্তি। তাদের মৃত্যুতে পরিবার যেমন অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমনি এলাকাও হারিয়েছে দুইজন পরিচিত মুখকে।
স্থানীয়রা বলেন, একই পরিবারের দুই ভাইকে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে হারানোর ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক। এমন শোক সামাল দেওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তারা মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন