দেশীয় মাছের প্রজনন ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে অবৈধ কারেন্ট জাল ও ‘চায়না দুয়ারি’ জালের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। জেলার ৯টি উপজেলায় একযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৭৪টি চায়না দুয়ারি (রিং জাল) ও ৫২টি কারেন্ট জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ সাঁড়াশি অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। নদ-নদী, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে অবৈধ জালের ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং বেচাকেনা বন্ধে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৭৪টি চায়না দুয়ারি এবং ৫২টি অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করা হয়।
এ সময় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে জড়িত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা আরোপ করে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারির মতো ক্ষতিকর জাল নদ-নদীর দেশীয় মাছের পোনা, রেণু ও প্রজননক্ষম মাছ নির্বিচারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজ জেলার সব উপজেলায় একযোগে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অবৈধ জালের ব্যবহার কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদ-নদীর জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত টিম স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় নিজ নিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে অবৈধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন