রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় এক হতদরিদ্র কৃষকের গোয়ালঘর থেকে সাতটি গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জীবিকার একমাত্র সম্বল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষক নুর ইসলাম ও তার পরিবার। বুধবার (১৩ মে) গভীর রাতে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক নুর ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এবং ঋণ করে তিনি গরুগুলো পালন করছিলেন। গরু বিক্রির টাকায় সংসার চালানো এবং সন্তানদের পড়ালেখার খরচ মেটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষক নুর ইসলাম বলেন, “রাতের কোনো একসময় চোরেরা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে সাতটি গরু নিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘর ফাঁকা দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন করছি, যেন আমার গরুগুলো উদ্ধার করে দেওয়া হয়।”
ঘটনার পর থেকে নুর ইসলামের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের সঙ্গে তিনিও বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। প্রতিবেশীরা জানান, নুর ইসলাম অত্যন্ত দরিদ্র একজন কৃষক। বহু কষ্ট করে গরু লালন-পালন করেই তার সংসার চলত। হঠাৎ এমন ঘটনায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। একজন দরিদ্র কৃষকের জীবিকার সবকিছু এক রাতে হারিয়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে গরুগুলো উদ্ধার করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামে চুরি ও গবাদিপশু চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা গ্রামে পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “ভুক্তভোগী কৃষক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য চোরচক্রের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু অনেক পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। এ ধরনের চুরি শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, একটি পরিবারকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তোলে। তাই দ্রুত গরু উদ্ধার ও চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন