রাজধানীর মিরপুর এলাকার দুয়ারীপাড়া, মরুল ও বাউনিয়া মৌজাস্থ আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফা এস্টেটের সম্পত্তি জবরদখল এবং আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা। তারা দাবি করেছেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে বিতর্কিত জমিতে অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বুধবার (১৪ মে) রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়াকফা এস্টেটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোবারক হোসেন মেম্বার। এসময় তারা অভিযোগ করেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিতর্কিত ভূমিতে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওয়াকফা এস্টেটের অফিসিয়াল মোতায়ওয়ালি আব্দুল কালাম আনসারী (জামাল) মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-১৫২১/২০২১ দায়ের করেন। মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে বিবাদী করা হয়।
বক্তারা বলেন, মামলাধীন মিরপুর এলাকার দুয়ারীপাড়া, বাউনিয়া ও মরুল মৌজার তফসিলভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর মহামান্য আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের ওই আদেশ এখনও বহাল রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত জমিতে উন্নয়ন ও নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়াকফা এস্টেটের খালি জমি দখল করে সেখানে বাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার ৪ নম্বর বিবাদী রাজউক বিতর্কিত জমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রদান করছে, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পরিপন্থী বলে দাবি করেন বক্তারা।
তারা জানান, আদালতের আদেশ অমাননার অভিযোগে কন্টেম্পট পিটিশন নং-৬২/২০২৪ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির শুনানির জন্য আগামী ২২ জুন ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মামলার ১১ নম্বর বিবাদী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ-এর মিরপুর জোন হাউজিং সেকশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে এখনও বিতর্কিত জমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা মহামান্য আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তারা আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যদি বিতর্কিত জমিতে কার্যক্রম চলতে থাকে, তাহলে তা আইনের শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন