কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় কোস্ট গার্ড ও র্যাবের যৌথ অভিযানে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট, গোলাবারুদ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টেকনাফ থানাধীন লেদা লামারপাড়া সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি ছিল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ২টি বুলেটপ্রুফ হেলমেট, ১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ এবং ১টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব সরঞ্জাম সন্ত্রাসী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে অভিযানকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কোস্ট গার্ড।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, দেশের উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের অপরাধ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে মাঝে মাঝে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে, যা দমন করতে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ ও অস্ত্র চোরাচালান কার্যক্রম আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন