পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয়দের দক্ষতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আলীকদম জোনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ১৫ দিনব্যাপী “প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ-২০২৬” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) আলীকদম সেনা জোনের আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী এবং একটি করে উন্নত মানের ‘ফার্স্ট এইড ব্যাগ’ বিতরণ করা হয়।
গত ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই নিবিড় প্রশিক্ষণে আলীকদম উপজেলার দুর্গম ২২টি পাড়া থেকে ২৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে ৯ জন নারী ও ১৭ জন পুরুষ রয়েছেন। প্রশিক্ষণে তাদের হাতে-কলমে প্রাথমিক চিকিৎসা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, ভাঙা হাড়ের পরিচর্যা, অচেতন রোগীর সেবা, অগ্নিদগ্ধ ও সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা এবং পানিতে ডোবা ব্যক্তিকে উদ্ধারের কৌশল শেখানো হয়।
প্রশিক্ষণে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসাররা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “জনসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অঙ্গীকার। দুর্গম পাহাড়ে যেখানে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন, সেখানে এই প্রশিক্ষিত কর্মীরা জরুরি মুহূর্তে জীবন রক্ষায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর ইসলাম, স্থানীয় চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনপদগুলোতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন পাড়ায় স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সেনাবাহিনীর।
মন্তব্য করুন