পটিয়ায় পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে ফুলকলি ও বনফুল কারখানায় যৌথ পরিদর্শন ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ফুলকলি কারখানার নির্মাণাধীন বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ফুলকলি কারখানায় এ পরিদর্শন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বাধীন বিশেষ টিম এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
পরিদর্শনকালে কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন কার্যক্রম এবং পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণাধীন ইটিপির অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় দেখা যায়, ইটিপি স্থাপনের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এ অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর কারখানাটি পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর দ্রুত ইটিপি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “আজ আবার পরিদর্শনে এসে দেখলাম ইটিপির কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে শতভাগ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
এমপি এনাম আরও বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে পরিচালিত হতে পারবে না। জনগণের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
পরে পরিদর্শনকারী দল পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া এলাকায় অবস্থিত বনফুল কারখানা পরিদর্শন করে। সেখানে উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্যাকেটজাত পণ্যের ওজন, পরিচ্ছন্নতা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ইটিপির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বনফুল কারখানার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে নেওয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো পণ্য নির্ধারিত মান ও ওজনে সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ দিনের পরিদর্শনে বনফুল কারখানার বিভিন্ন কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। তবে ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক মঈনুদ্দীন ফয়সাল বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ফুলকলি কারখানার ইটিপি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, শিল্পায়নের ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে পরিবেশ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি নির্দেশনা ও পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, যৌথ পরিদর্শনের মাধ্যমে তার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।
এ সময় পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন, ফুলকলির জিএম জসিম উদ্দিন, বনফুলের জিএম শাহ কামাল মোস্তফা, ম্যানেজার এডমিন শহিদুল আলম, পটিয়া থানার এসআই মো. জুয়েল উদ্দিন, এসআই আখতার হোসেন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী বখতিয়ার উদ্দিন বকুল, বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন, মো. হাসান, পটিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন