বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় কোটি টাকার পোল্ট্রি খামার ও মৎস্যঘের হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। চাঁদাবাজি, দখল ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করলেও এখন উল্টো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি বলে দাবি করেছেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন বাশতলী এলাকার মদনাখালী গ্রামে প্রায় ৮ একর জমি লিজ নিয়ে সেখানে একটি আধুনিক পোল্ট্রি খামার ও মৎস্যঘের গড়ে তোলেন। সেখানে তিনি টিনশেড স্থাপনা, মুরগির ফার্ম, ছাগলের খামার, গভীর নলকূপ, কালভার্ট, বিদ্যুৎ সংযোগসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক অবকাঠামো তৈরি করেন।
পরবর্তীতে তিনি একই খামারে স্থানীয় হাওলাদার কবির হোসেনকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই কর্মচারীসহ একটি প্রভাবশালী চক্র ধীরে ধীরে খামারটি দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে। এ চক্রে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিও জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় কবির হোসেন, শেখ সালমান হোসেনসহ ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল রামদা, শাবল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খামারে প্রবেশ করে। তারা আনোয়ার হোসেনকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। ঘটনার কয়েকদিন পর আবারও একই চক্র খামারে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০০ কেজি মুরগি ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করে নেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়।
এরপর তারা খামারের স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে এলাকা থেকে বের করে দিয়ে পুরো খামার দখল করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন বাগেরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে রামপাল থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে, যার নম্বর ৭ এবং তারিখ ৭ মে ২০২৬।
মামলা দায়েরের পর থেকে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “সব হারিয়ে আমি এখন দিশেহারা। ন্যায়বিচার না পেলে আমার পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।”
অভিযুক্ত কবির হোসেনের স্ত্রী মনিরা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে খামারের পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রামপাল থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজিব আল রশিদ বলেন, “আমরা এখনো নথিপত্র পর্যালোচনা করছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ব্যবসায়ী মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মন্তব্য করুন