সন্তানের সুষ্ঠু বিকাশ ও নৈতিক চরিত্র গঠনে অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই মনে করেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। তিনি সু-সন্তান গড়ে তুলতে অভিভাবকদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, সন্তানের সঠিক লালন-পালন অভিভাবকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে সন্তানদের সঙ্গে আচরণ করা জরুরি, কোনো অবস্থাতেই রাগ বা চিৎকার করা উচিত নয়। পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, যাতে শিশুরা সহজেই নিজেদের কথা অভিভাবকের কাছে বলতে পারে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর মতে, ছোটবেলা থেকেই সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী উৎসাহ দেওয়া, ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করা এবং বয়স অনুযায়ী সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা প্রয়োজন। সন্তান ভুল করলে শান্তভাবে তা বুঝিয়ে দেওয়া এবং ভালো কাজ করলে প্রশংসা ও পুরস্কার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত এবং তাদের অনুভূতিকে সম্মান করতে হবে। শিশুসুলভ আচরণ নিয়ে উপহাস না করে বরং সহানুভূতিশীল হতে হবে, যাতে তারা মানসিকভাবে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্তানের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, আচার-আচরণ ও শিষ্টাচার শেখানো প্রয়োজন। পাশাপাশি বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া উচিত।
এছাড়া, সন্তানকে কখনো অন্যের সামনে অপমান বা বিব্রত না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। অভিভাবকদের উচিত সবসময় সন্তানকে ভালোবাসা দেওয়া এবং তাদের কাছে আপন করে নেওয়া, যাতে তারা নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী বোধ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা সন্তানদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। একইসঙ্গে সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো—কথা বলা, খেলা করা এবং তাদের পছন্দ-অপছন্দ জানা—সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট। তিনি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কদমতলীর হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্তব্য করুন