মাগুরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য ও পারিবারিক কলহের জেরে জিহাদ হোসেন (২১) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু রেখে মৃত্যুর দৃশ্য ধারণ করেছিলেন বলে দাবি করেছে পরিবার।
রবিবার (৭ জুন) গভীর রাতে মাগুরা পৌরসভার স্টেডিয়ামপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ হোসেন সদর উপজেলার আমুড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ব্যাটারির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় ঝালকাঠির মিম খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল।
প্রায় এক মাস আগে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রী ঢাকায় চলে যান। এরপর একাধিকবার জিহাদ তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। চার দিন আগে জিহাদের মা নিজেও ঢাকায় গিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে স্ত্রী সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ই জিহাদ আত্মহত্যা করেন এবং সেই মুহূর্তে মোবাইল ক্যামেরা চালু ছিল, ফলে ঘটনাটি ভিডিও আকারে ধারণ হয়।
পরে সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা দরজা না খোলায় সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে উঁকি দেন। এ সময় তারা জিহাদের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মাগুরা সদর থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন