রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়ন-এর চৌপতিরহাট বাজার থেকে কুড়ারপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, উত্তর মাদাই খামার, দক্ষিণ মাদাই খামার ও জেলেপাড়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি আজও পাকাকরণ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে তা কাদা ও পানিতে পরিণত হয়, সৃষ্টি হয় চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতি।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা এলে পুরো সড়ক হাঁটুসমান কাদায় ঢেকে যায়। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও ভাঙা অংশ—সব মিলিয়ে এটি এখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রায় অচল সড়ক। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পাঁচ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। অনেকেই একে “মরণ ফাঁদ” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এর মধ্যে রয়েছে কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুতুবপুর দাখিল মাদ্রাসা, লোহানীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, লোহানীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, কাঁচাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও অরুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি পুরোপুরি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। গর্তে জমে থাকা পানিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় রোগী পরিবহন করতেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই এই রাস্তার একই অবস্থা দেখে আসছি। কত জনপ্রতিনিধি এলেন গেলেন, কিন্তু রাস্তার উন্নয়ন হয়নি। বর্ষায় ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর।
গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটা যায় না। বাজারে যাওয়া, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো সবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে কাদা লেগে কাপড়-জুতা নষ্ট হয়। অনেক সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পাই। আরেক শিক্ষার্থী রাব্বি ইসলাম বলে, বৃষ্টির দিনে বই-খাতাও ভিজে যায়, স্কুলে দেরি হয়।
কৃষক নুর ইসলাম বলেন, “ফসল বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হয়। গাড়ি ঢুকতে চায় না, তাই কম দামে ক্ষেত থেকেই বিক্রি করতে হয়।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমনকি যোগাযোগ সমস্যার কারণে বিয়ে-শাদির ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, হাটবাজারে যাতায়াত বন্ধের মতো অবস্থা। বর্ষায় কেউ এই পথে আসতে চায় না, ফলে ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাস্তাটির দুরবস্থার বিষয়টি আমরা জানি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে বদরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশীদ বলেন, “রাস্তাটির নতুন কোড নম্বর অনুমোদন হয়েছে। এটি দ্বিতীয় পর্যায়ের পাকাকরণের তালিকায় রয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
তবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয়দের দাবি, আর আশ্বাস নয়—তারা এখন দ্রুত বাস্তব কাজ দেখতে চান। তাদের প্রত্যাশা, ৫৫ বছরের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন