সুন্দরবনে পৃথক দুটি সফল অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ২ জেলেকে জীবিত উদ্ধার এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত দয়াল বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ) বিকেলে বিসিজিএস তৌফিক এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ আশিকুল ইসলাম ইমন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা একটি মাছ ধরার নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং দয়াল বাহিনীর ১ জন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) মোংলা থানাধীন জয়মনিঘোল এলাকার শুয়োরমারা খাল সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরার সময় ওই ২ জেলে অপহৃত হন। ডাকাতরা তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালায়।
পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক মুর্তি খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি কাঠের নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, দয়াল বাহিনী শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। পরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে দয়াল বাহিনীর ১ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি একনলা বন্দুক ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম তরিকুল (৩৫)। তিনি খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দয়াল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কোষ্টগার্ডের এ কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন