চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীবেষ্টিত মধ্যম চরতি গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি শঙ্খ নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ। প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ এলাকার হাজারো মানুষকে।
চরতি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড হলেও মৌজাগতভাবে চন্দনাইশের বরমা এলাকার অন্তর্ভুক্ত মধ্যম চরতি। শুষ্ক মৌসুমে গ্রামবাসীর ভরসা প্রায় ২৭০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো, আর বর্ষাকালে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দীর্ঘ এ গ্রামে দুই শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ বসবাস করেন। তাদের প্রধান জীবিকা পান, সবজি ও আখ চাষ। তবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
গ্রামটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি হেফজখানা ও দুটি মসজিদ থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের শঙ্খ নদী পেরিয়ে বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিনিয়র মাদরাসা ও বরমা কলেজে যেতে হয়। বর্ষাকালে জোয়ারের পানিতে সড়ক তলিয়ে গেলে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর আলম জানান, শঙ্খ নদীর ভাঙনে তিনি ১১ বার বসতঘর স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অপর বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, নদীভাঙনে ছয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও সরকারি সহায়তা খুব একটা পাননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেও তাদের দুইটি খাল পার হয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ব্রাহ্মণডেঙ্গা স্কুলে যেতে হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে তারা মধ্যম চরতিকে চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
বরমা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য জাফর আহম্মদ বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে শঙ্খ নদীর ভাঙনের ফলে বরমা এলাকার ৫ ও ৬ নম্বর শিট পরিবর্তিত হয়ে মধ্যম চরতিতে যুক্ত হয়। যদিও এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা সাতকানিয়া উপজেলার ভোটার, তবুও মৌজাগতভাবে এলাকার একটি অংশ চন্দনাইশের অন্তর্ভুক্ত।
অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন বলেন, শঙ্খ নদীর ওপর বিদ্যমান বাঁশের সাঁকোটি বেইলি ব্রিজে রূপান্তর করা হলে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
স্থানীয় কবি অভীক ওসমান বলেন, মধ্যম চরতি অত্যন্ত উর্বর কৃষি এলাকা। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যোগাযোগের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে অনেক শিশু-কিশোর শিক্ষা থেকেও পিছিয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শঙ্খ নদীর ওপর অন্তত একটি অস্থায়ী বেইলি সেতু নির্মাণ করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে এবং কৃষি, শিক্ষা ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
মন্তব্য করুন