মাগুরায় জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন, অবরুদ্ধ করে রাখা এবং হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও তার মা আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাদিয়া ইসলাম (১৯) অভিযোগ করেন, শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে রহমত মিয়ার বাড়িতে তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাদিয়া ইসলাম জানান, তাদের বিয়ে হয় ২০২২ সালে। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পরে তাকে না জানিয়ে রহমত মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং এরপর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, “মেয়ে ও তার সোনার চেইন ফেরত দেওয়ার কথা বলে আমাকে ডেকে নেয়। পরে বাড়িতে গেলে আমাকে মারধর করা হয়, শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।”
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, বাড়ির ভেতরে নিয়ে দরজা-গেট বন্ধ করে মারধর করা হয়। এ সময় তার মা, খালা, মামী ও ইউপি সদস্য ইরানি বেগমও আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।
ইউপি সদস্য ইরানি বেগম বলেন, “আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে।”
অন্যদিকে, রহমত মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সন্তানকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ থেকেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, আহত দুই নারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন