জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাগুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দেয়ালে আঁকা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি। শিক্ষার্থীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।
মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, নোমানী ময়দান, মধুমতি ডাকবাংলো, মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে সদর উপজেলা পরিষদের সামনের দেয়াল, জেলা ফায়ার সার্ভিস অফিস এবং মাগুরা সরকারি বালক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এসব গ্রাফিতি শোভা পাচ্ছে।
গ্রাফিতিগুলোতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, রাষ্ট্র সংস্কার, বাকস্বাধীনতা, সমঅধিকার এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নানা বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও লেখা হয়েছে আন্দোলনের স্লোগান, কোথাও উঠে এসেছে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
মাগুরা কালেক্টরেট কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকেছেন। তাদের ভাষ্য, “জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আমরা কখনো ভুলব না। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। মাগুরার যেসব তরুণ প্রাণ এই আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমাদের এই আয়োজন।”
গ্রাফিতি আঁকায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহিদরা আমাদের গর্ব। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা দেয়ালচিত্রে সেই ইতিহাস তুলে ধরছি।”
সদরের রূপাটি হালিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা বলেন, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহিদ শিক্ষার্থীরা আমাদের ভাই। তাদের স্মরণে আমরা গ্রাফিতির মাধ্যমে আন্দোলনের ইতিহাস ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছি।”
রূপাটি হালিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো আমাদের শিক্ষার্থীরাও এই গ্রাফিতি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের শহিদদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই তারা দেয়ালে ইতিহাসকে রঙে-তুলিতে তুলে ধরেছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। রঙিন দেয়ালচিত্রগুলো যেন আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয়ের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মন্তব্য করুন