চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নে এক সিএনজি চালককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, আবদুস সবুরের পুত্র এমরান হোসেন প্রকাশ সাজুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একাধিক মামলায় জড়ানো হয়েছে, যা তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে ফেলেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এমরান হোসেন সাজু মনসার টেক এলাকায় ভাড়া যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে পুলিশ দাবি করে, ওই সময় তিনি ইন্দ্রপোল বাইপাস এলাকায় ছিলেন।
এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ভুক্তভোগীর মা আনোয়ারা বেগম জানান, তার ছেলেকে পটিয়া থানা সহ নগরীর বিভিন্ন থানায় মোট ১৪টি মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব মামলার অনেকগুলোতেই তার ছেলের নাম এজাহারে নেই, আবার কিছু ক্ষেত্রে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও নতুন করে মামলা বা গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে একজন সাধারণ সিএনজি চালক। সে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করে আরও জানায়, মামলাগুলোর বাদী ও আসামির মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো ও ভুয়া মামলা বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, এমরান হোসেন সাজু এলাকায় একজন শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এতগুলো মামলার বিষয়টি তাদের কাছেও অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।
এদিকে এলাকার কয়েকজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। আইনের অপব্যবহার করে কাউকে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়
ভুক্তভোগীর মা আনোয়ারা বেগম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা উচ্চ আদালত, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মামা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “আমার ভাগিনাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন