মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় এক স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের গান্ধাই সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে ভারতীয় পরিচয়পত্র, ভারতীয় মোবাইল সিম এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আটককৃতরা হলেন কামরুল আহমেদ (৩২) ও তার স্ত্রী হুসনা বেগম লস্কর (২৪)। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভারতে বসবাস করছিলেন এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
বিজিবির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কামরুল আহমেদ ২০১৪ সালে দালালের সহায়তায় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে অবস্থানের একপর্যায়ে তিনি ২০১৫ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বলে দাবি করেছেন। পরবর্তীতে ভারতের আসাম রাজ্যের হাইলাকান্দি জেলার লালা গ্রামের বাসিন্দা তাজ উদ্দিন লস্করের মেয়ে হুসনা বেগম লস্করকে বিয়ে করেন তিনি।
বিজিবি আরও জানায়, দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসের পর সম্প্রতি তারা বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেন। শুক্রবার ভোরে বড়লেখা সীমান্তের গান্ধাই এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের সময় বিজিবির টহল দল তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ভারতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল সিম ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খাঁন জানান, শুক্রবার দুপুরের পর বিজিবি আটককৃত দু’জনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে তাদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, “মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এখনও দালালচক্র সক্রিয় থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করছেন। এতে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তাজনিত নানা ঝুঁকি বাড়ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন