রাজশাহী শহরের ভদ্রা রেললাইন বস্তির ছোট্ট এক ঘরে বসবাস আল আমিনের। বয়স এখন খুব বেশি নয়, কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে বুঝতে হয়েছে শৈশব থেকেই। যে বয়সে একটি শিশুর বাবা-মায়ের স্নেহে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাকে বেছে নিতে হয়েছে দাদীর হাত ধরে অনিশ্চিত জীবনের পথ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আল আমিনের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার বাবা পরিবারকে রেখে নওগাঁ চলে যান। পেশায় রিকশাচালক ছিলেন তিনি। পরে সেখানে আরেকটি বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েন। এরপর আর কখনো স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেননি।
স্বামীর পরিত্যক্ত হয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটতে থাকে আল আমিনের মায়ের। সংসারে উপার্জনের কেউ না থাকায় বৃদ্ধ দাদী শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে যা পেতেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলত সংসার।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতা এখানেই থেমে থাকেনি। আল আমিনের বয়স যখন এক বছর তিন মাস, তখন তার মাও অন্যত্র চলে যান। ছোট্ট শিশুটি হয়ে পড়ে পুরোপুরি অসহায়।
এরপর থেকে দাদীর কোলই হয়ে ওঠে আল আমিনের একমাত্র আশ্রয়। বৃদ্ধ দাদী তাকে কোলে নিয়েই রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে বেড়ান। কখনো নিউমার্কেট, কখনো শহরের ব্যস্ত সড়কে মানুষের কাছে হাত পেতে সংগ্রহ করেন দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা।
সম্প্রতি রাজশাহী নিউমার্কেট এলাকায় দাদীর পাশে বসে পুরোনো কাগজে ক, খ, গ, ঘ লিখতে দেখা যায় আল আমিনকে। সেখানেই কথা হয় তার ও তার দাদীর সঙ্গে।
আল আমিন জানায়, সে পড়াশোনা করে বড় মানুষ হতে চায়। স্কুলে যেতে চায়, বই-খাতা নিয়ে অন্য শিশুদের মতো পড়তে চায়। কিন্তু দারিদ্র্য যেন তার সব স্বপ্নকে আটকে দিয়েছে। যেখানে দুই বেলা খাবারের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে স্কুলে যাওয়া তার কাছে স্বপ্নের মতো।
অন্যদিকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন তার দাদী। শারীরিক নানা রোগে ভুগলেও চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। নিয়মিত ওষুধ কেনাও সম্ভব হয় না তাদের পক্ষে।
স্থানীয়রা জানান, সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো আল আমিনের জীবন বদলে যেতে পারে। সামান্য সহযোগিতাও ফিরিয়ে দিতে পারে তার হারিয়ে যাওয়া শৈশবের হাসি।
সহযোগিতা করতে যোগাযোগ:
বিকাশ: ০১৭৩২৪২৬২৮৬
মন্তব্য করুন