দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম গুদাম থেকে ত্রাণ ভাণ্ডারের জন্য নির্ধারিত পণ্যের বাইরে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের অভিযোগে দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকৃতরা হলেন— সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিপাই জামশেদ, সাগর ও হামিদুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন গভীর রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম গুদাম থেকে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য একটি গাড়িতে মালামাল তোলা হচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া লোডিং কার্যক্রম ২৩ মিনিটে শেষ হয়। পরে একই গাড়িতে আবারও অতিরিক্ত মালামাল তোলা হয় এবং পরবর্তীতে কিছু পণ্য আনলোড করতেও দেখা যায়।
ফুটেজ পর্যালোচনায় ঘটনাস্থলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী ও সিপাই সাগরের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে বিধিবহির্ভূত কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে এসব পণ্য অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে তোলা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে একই রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে। তল্লাশিতে ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, চাদর, ওড়না এবং বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা বলে জানা গেছে। এ সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য অনুমোদিত পণ্যের পরিমাণের তুলনায় ট্রাকে অতিরিক্ত মালামাল পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন