টাঙ্গাইলের সখিপুরে মাদক, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরাদ হোসেন। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস না করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ওসি মুরাদ হোসেন বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাং থাকলে আমি থাকব না। আর আমি সখিপুর থানায় থাকলে মাদক, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাং থাকবে না।”
তিনি বলেন, সখিপুরে মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ওসি আরও বলেন, “হয়তো সখিপুরে মাদক থাকবে, না হলে আমি থাকব।” তাঁর এমন কঠোর বক্তব্যে মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে উল্লেখ করে ওসি মুরাদ হোসেন বলেন, মাদকের কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। এর ভয়াবহ প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ছে। তাই মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, সখিপুরকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে পুলিশ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ওসি মুরাদ হোসেনের এমন কঠোর অবস্থান সখিপুরে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও গতিশীল করতে পারে। তবে মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধও জরুরি।
সখিপুরবাসীর প্রত্যাশা, ওসি মুরাদ হোসেনের কঠোর বার্তা বাস্তব অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপে প্রতিফলিত হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সখিপুরকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন