সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কামারখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। ফলে সেতুর প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কামারখালী নদীর ওপর প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটি নির্মাণ করা হয় জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন এবং দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), দিরাই-এর বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের প্রচেষ্টায় এই সেতু নির্মিত হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক দশক পার হলেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখন জনগণের কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক না থাকায় সেতুটি শুধু একটি স্থাপনা হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে, বাস্তবে এর মাধ্যমে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পায়ে হেঁটেও পারাপার করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও বাড়ে, তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কামরিবীজ গ্রামের বাসিন্দা এবং মরহুম আলহাজ্ব এখলাছুর রহমান স্মৃতি ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “এই সড়কটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী জগদল কলেজ, রায়বাঙ্গালী আলীম মাদ্রাসা ও জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, স্থানীয় সাধারণ মানুষও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। চিকিৎসা, বাজার বা অন্যান্য প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না, যা জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে কার্যকর করা হোক। তারা সুনামগঞ্জ-২ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে পারে।
মন্তব্য করুন