ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষকদের সহায়তায় সরেজমিনে পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন।
শনিবার (৯ মে) নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে হাওরে ধান নষ্ট হয়ে হৃদরোগে মারা যাওয়া কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারের হাতে ২ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদের উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “কৃষকের ঘামে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।”
তিনি আরও জানান, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান।
হাওরের বাঁধ ও বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি বা সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, নাসিরনগর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত ৩০৫ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা ধরা হলেও কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতি এর চেয়েও বেশি।
বর্তমানে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় হাওরের পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রহিম। স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, “হাওরবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং থাকবে।”
এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাছরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এম এ হান্নান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং কৃষিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়।
মন্তব্য করুন