কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকায় গৃহবধূ মোছা. মাকসুদা আক্তার (৩১)-এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মামুনুর রশিদ তার মেয়ের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে মামলাটি দায়ের করেন। নিহত মাকসুদা আক্তার প্রায় চার বছর আগে দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে মো. রেজাউল করিম রাজুকে বিয়ে করেন। অভিযুক্ত রেজাউল করিম রাজু কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকায় বসবাস করেন এবং ঝিকরজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি পিটিআইতেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুকের দাবিতে মাকসুদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। সংসার টিকিয়ে রাখতে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মে রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের পর পশ্চিম তারাপাশা এলাকার আতরজান স্কুলসংলগ্ন বাসায় মাকসুদা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা মামুনুর রশিদ জানান, ১৫ মে দুপুরে থানার মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় স্বামী মো. রেজাউল করিম রাজুসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন