মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কুকুরের আক্রমণ থেকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে একটি বিপন্নপ্রায় লজ্জাবতী বানর (Slow Loris) উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় এক যুবকের মানবিক উদ্যোগে প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রাণীটিকে পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের আমরইলছড়া চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় একটি গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় হঠাৎ লজ্জাবতী বানরটি মাটিতে পড়ে যায়। মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে থাকা কয়েকটি কুকুর প্রাণীটিকে ঘিরে ফেলে এবং আক্রমণের চেষ্টা চালায়। আতঙ্কিত বানরটি আত্মরক্ষার সুযোগও পাচ্ছিল না।
এ সময় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুকুরের অস্বাভাবিক চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ দাশ। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত কুকুরগুলোকে সরিয়ে দেন এবং নিজের পরনের গামছা দিয়ে বানরটিকে নিরাপদে জড়িয়ে উদ্ধার করেন। পরে তিনি প্রাণীটিকে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি আপন দাশ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে স্থানীয় বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তারা জানান, উদ্ধারকৃত লজ্জাবতী বানরটির শরীরে কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং এটি সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
পরে প্রাণীটিকে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পর্যবেক্ষণ শেষে উপযুক্ত পরিবেশে প্রাণীটিকে অবমুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা বলেন, প্রদীপ দাশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ না থাকলে বিরল এ বন্যপ্রাণীটি কুকুরের আক্রমণে মারা যেতে পারত। তার মানবিক উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, লজ্জাবতী বানর বাংলাদেশের একটি বিরল ও বিপন্নপ্রায় নিশাচর প্রাণী। বনাঞ্চল ধ্বংস, অবৈধ শিকার এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে এ প্রাণীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাই এ ধরনের প্রাণী দেখলে বিরক্ত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মন্তব্য করুন