কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী ও প্রায় ৩০০ কেজি বাসমতি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলা সদরের মহিলা ডিগ্রি কলেজের পেছনের একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন’র নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল ওই বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় বাসাটির তালা ভেঙে ভেতর থেকে ৩৫ ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী এবং প্রায় ৩০০ কেজি বাসমতি চাল উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে ভারতীয় পণ্য মজুদ ও বিপণন করে আসছিল। সীমান্তবর্তী ভোটহাট, মাদারগঞ্জ ও নারায়ণপুর এলাকা ব্যবহার করে এসব পণ্য অবৈধভাবে দেশে আনা হতো। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রম বেড়ে গেছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় অতিরিক্ত লাভের আশায় চোরাকারবারি চক্রগুলো সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য দেশে এনে গোপনে মজুদ করছে। ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি এমন তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সংশ্লিষ্ট চক্র কিংবা বাসা ভাড়াটিয়াদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের উৎস, গুদামজাতকরণ ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে।”
এদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অবৈধ ভারতীয় পণ্যের বিস্তারে স্থানীয় বাজার ও বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মন্তব্য করুন