রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের নাওপাড়া এলাকায় যমুনেশ্বরী নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও নদীপাড়ের মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। এতে একদিকে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষিজমি ও স্থানীয় পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে নাওপাড়া ও রাজরামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনেশ্বরী নদীর তীরে একাধিক স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদী থেকে উত্তোলিত বালু ও মাটি ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অন্তত ১৫টি ট্রাক্টরকে বালু পরিবহনের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায় দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলেও অজ্ঞাত কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না।
নাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
কালজানি গ্রামের কয়েকজন গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, দিন-রাত ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলাকায় শব্দদূষণ বেড়েছে। রাতে গাড়ির শব্দে শিশু ও বৃদ্ধদের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। দিনের বেলায় ধুলাবালুর কারণে স্বাভাবিক চলাচলও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ট্রাক্টরচালক জানান, তারা প্রতিটি ট্রিপে ১০০ থেকে ২০০ টাকা মজুরি পান। মূল লাভ চলে যায় বালু ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কাছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিনুর মিয়া বলেন, “ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ধুলাবালুর কারণে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু ও মাটি বহনকারী যানবাহনের কারণে এলাকার সড়কগুলো ভেঙে পড়ছে। পাশাপাশি নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের ফলে ভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ফসলি জমি ও বসতভিটার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে মধুপুর ইউনিয়নের তহশিলদার রতন চন্দ্র বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অবহিত করা হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন বলেন, “নাওপাড়া এলাকায় যমুনেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগে এর আগেও অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। পুনরায় সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন