বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় মৎস্যঘেরে মাছ ধরা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
শনিবার (২ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভাগা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে একটি মৎস্যঘেরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তিকে আটক করে ভাগা বাজারের বিএনপি অফিসে রাখা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশের আগেই বহিরাগত কয়েকজন এসে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এক পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে আকবর হোসেন আকো (৫৫), মাসুদ শেখ (৩৮), খোকন শেখ (৩৬), কামরুল শেখ (৪০), শামীম শেখ (৩২), জাহিদ শেখ (৩৫), হানিফা শেখ (৪০) ও সেকেন শেখ (৪৫) আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মাসুদ ও খোকনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপর পক্ষের দাবি, তাদের আব্বাস শেখ (৪৫), কামাল হোসেন (৩০), সোহাগ শেখ (২০), সাগর শেখ (২০), রাজু শেখ (৪৫), ওসমান শেখ (৪১) ও ইসলাম শেখ (৩০) মারধরের শিকার হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় ভাগা বাজারে বিএনপি অফিস, কাঁকড়া ডিপো, বিকাশের দোকান, চায়ের দোকান ও একটি ভেটেরিনারি ওষুধের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আকবর হোসেনসহ বাজার কমিটির সভাপতি দাবি করেন, শামীম, আশা, আবু তালেব, মোশা, সফরুল গাজী ও কামালসহ শতাধিক ব্যক্তি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ছিলেন। তবে অপর পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও নেতৃবৃন্দের ছবি ছেঁড়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তার বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, “খবর পেয়ে আমি জাহিদুলের বাড়ির সামনে গিয়ে অবস্থান নিই, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এটি মূলত মৎস্যঘের সংক্রান্ত বিরোধ, রাজনৈতিক নয়।”
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত বিশ্বাস জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। তিনি বলেন, “আমাদের উপস্থিতিতে কোনো অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাজারের পাহারাদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষের কেউই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন