বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক অনুপস্থিতি, অস্থায়ী (বর্গা) শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো এবং নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের কমচঙ ইয়ুংছা মাওরুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিদুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রাংলাই দাংলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক না থাকলেও কাগজপত্র ও নামমাত্র কার্যক্রম চালাতে একজন অস্থায়ী (বর্গা) শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে এলেও শ্রেণি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকে। শিশুরা কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যায়। এতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত কেউই ক্লাস নেন না। শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় বিদ্যালয়গুলো এখন শুধু নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বছরের পর বছর শিক্ষকরা অনিয়মিতভাবে আসেন। কখনো দুই-তিন মাস পর একদিন এসে থাকেন, আবার চলে যান। ফলে শিশুদের লেখাপড়া সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১০ সালে ইউএনডিপি’র অর্থায়নে এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে এই এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো স্থাপন করা হয়। পরে ২০১৭ সালে এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। তবে জাতীয়করণের পরও শিক্ষক নিয়োগ ও উপস্থিতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ থেমে নেই।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়োগের সময় অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের কারণে অযোগ্য ব্যক্তিরা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমে।
এ বিষয়ে এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু স্কুলে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত চলে, বাকিগুলো কার্যত অচল। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রশাসনের কিছু পর্যায়ে অনিয়মের বিষয়টি জানা থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
খিদুপাড়ার এক শিক্ষক জানান, দুর্গম এলাকার কারণে নিয়মিত যাতায়াত করা কঠিন হলেও তিনি বদলির চেষ্টা করছেন।
এদিকে আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনলাইন গেম ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে সহকর্মীদের পক্ষ থেকে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, অনুপস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে বেতন স্থগিত বা ফেরতের ব্যবস্থাও করা হবে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন অভিযোগগুলো তদন্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন