মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় লজেন্স ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে আনা এসব পণ্য একটি পিকআপ ভ্যান থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাড়ির চালককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে সেই চোরাচালান চক্রের একটি বড় চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়া সড়কের ইসলামপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়। পরে গাড়িটি থানায় নিয়ে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হলে মুরগির খাঁচার নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় লজেন্স ও কসমেটিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, ত্বকের যত্নের সামগ্রী ও শিশুদের খাদ্যজাত পণ্য ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, জব্দ করা এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক চালক জানিয়েছেন, পিকআপ ভ্যানটি সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করে মৌলভীবাজার শহরে নিয়ে আসে। পরে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব পণ্য সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে চোরাচালান চক্রের মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে। এসব পণ্য পরে বিভিন্ন দোকান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হয়। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় বাজারেও তৈরি হচ্ছে অসম প্রতিযোগিতা।
এ ঘটনায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আমদানি ও পরিবহনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আটক চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালান চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্তপথে চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পরিবহন বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ পণ্য আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন