বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার টেংরামারি মৌজায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত ঠালনতলা খাল অবৈধভাবে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ এবং জমিতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জমির মালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী রোমিছা খাতুন, রমলা বালা হালদার ও সুদীপ মন্ডল গং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, টেংরামারি মৌজার আর.এস. ১৪০ নং খতিয়ানভুক্ত ১০৯ দাগের জমির তারা বৈধ মালিক। এই জমির তিন পাশে সরকারি খাল এবং এক পাশে মহাসড়ক ও রেললাইন থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঠালনতলা খালই ছিল তাদের যাতায়াত ও পানি প্রবাহের একমাত্র পথ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন সরকারি এই খালটি বালু দিয়ে ভরাট করে সেখানে ঘর ও গেট নির্মাণ করেছেন। এতে শুধু সরকারি খাল দখলই হয়নি, বরং ভুক্তভোগীদের জমিতে প্রবেশের পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৮২ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, সরকারি খাল ভরাট করে ব্যক্তিগত দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি পরিবেশ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর প্যানেল সালিশে গত শনিবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। সেখানে অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন, সোয়াইব হোসেন সোয়েব, আবুল বাশার, মশিউর রহমান ও বাদশাহ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে জানা যায়, ঠালনতলা খালের প্রায় এক একর জায়গা ইতোমধ্যে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা খাল দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় দখল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তাদের দাবি। এতে তাদের প্রায় ১৫-১৬ শতাংশ নিজস্ব জমি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, অতীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় খাল দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, ফলে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্থানীয় প্রতিনিধি সরদার পারভেজ জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং খাল দখলের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) নেতারা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে খালটি উদ্ধার এবং পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, সরকারি খাল দখল ও ভরাট বন্ধ না হলে পরিবেশগত বিপর্যয় এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মন্তব্য করুন