যুক্তরাজ্যের লন্ডন-এর রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা আক্তার। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে স্টেপনি গ্রিন ওয়ার্ড থেকে টানা চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার এই কৃতি সন্তান। তার এ বিজয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি নিজ জন্মভূমি কুলাউড়া উপজেলা-জুড়েও আনন্দের জোয়ার বইছে।
গত শনিবার (৯ মে) স্থানীয় সময় ঘোষিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, অ্যাসপায়ার পার্টির প্রার্থী সাবিনা আক্তার ১ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা চারবারের এই জয় প্রমাণ করে স্থানীয় জনগণের কাছে তার জনপ্রিয়তা, দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা দৃঢ়।
এর আগে ২০১৭ সালে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী স্পিকার নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সে সময় তার এ অর্জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
সাবিনা আক্তারের শিকড় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের মাধবপুর ওসমানপুর গ্রামে। তিনি লন্ডনে পরিচিত সমাজসেবক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক উদ্দিন সুন্দরের কন্যা। বর্তমানে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্টেপনি গ্রিন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতিতে তার পথচলা দীর্ঘ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। প্রায় দুই দশক তিনি ঐতিহ্যবাহী লেবার পার্টি-র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের কারণে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার গ্রুপের ডেপুটি লিডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০২৪ সালের জুন মাসে দলীয় নীতি ও অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে তিনি লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি অ্যাসপায়ার পার্টিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যান।
শুধু রাজনীতি নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সাবিনা আক্তার প্রশংসিত। লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রবীণদের একাকিত্ব দূর করা, সামাজিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নিজ জন্মভূমি কুলাউড়া ও বরমচালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।
প্রবাসের ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝেও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি সাবিনা আক্তার। দেশে এলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের কাছেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। তার এই টানা চতুর্থ বিজয় প্রমাণ করেছে, সততা, দক্ষতা ও মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা থাকলে প্রবাসের মাটিতেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এখন সাবিনা আক্তারকে ঘিরে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার বন্যা বইছে। প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করায় তাকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মন্তব্য করুন