মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা-এ ছাগল দ্বারা ফসল নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার আমলসার গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমলসার গ্রামের মসলেম শেখের স্ত্রী সাজেদা বেগমের একটি ছাগল প্রতিবেশী মৃত কিয়ামুদ্দীনের ছেলে মোতাহারের জমির শাক-সবজি খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোতাহারের ছেলে তরিকুলের সঙ্গে সাজেদা বেগমের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথাকাটাকাটির সময় সাজেদা বেগমের পক্ষ নিয়ে সুমন শেখ নামের এক যুবক তরিকুলকে মারধর করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেন।
এ বিষয়ে মোঃ ওলি মিয়া বলেন, খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, “ছাগলে ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা জানান, ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুর অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর মতে, পারস্পরিক সহনশীলতা ও দ্রুত সালিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের ছোটখাটো বিরোধ বড় সংঘর্ষে রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন