চট্টগ্রামের পটিয়ায় কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬”। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) ওমর ফারুক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার ধর, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইয়াসিন আলী, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বুলবুল, টিটন দে প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি খাতকে টেকসই ও লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুব সমাজকে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে আরও সহনশীল ও টেকসই করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। কংগ্রেসে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, জৈব সার প্রয়োগ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে “বারী জৈব সার”-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশবান্ধব ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এ জৈব সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন