কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করে স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন দুবাই প্রবাসী আবু কালাম। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সালিশি মহলে ঘুরেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
প্রবাসী আবু কালাম কুলিয়ারচর উপজেলার ভাটি জগৎচর গ্রামের মৃত চান্দু মিয়া ও মৃত জামেনা বেগমের ছেলে। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, ২০০৭ সালে জীবিকার তাগিদে দুবাই যান। পরে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর পারিবারিকভাবে জাফরাবাদ গ্রামের মেরাজ আলী শাহর মেয়ে তানজিনা আক্তারকে বিয়ে করেন।
আবু কালামের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে উপার্জিত অর্থ স্ত্রীর কাছে বিশ্বাসের ভিত্তিতে জমা রাখতেন তিনি। জাফরাবাদ মোড়ে জমি কেনার জন্য স্ত্রীকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাঠান। পরে সেই জমি তার নামে না করে স্ত্রী নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া দোকান নির্মাণ, মাটি ভরাট ও অন্যান্য কাজে আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও কিনে দেন। পাশাপাশি শ্বশুর ও স্ত্রীর বড় ভাই বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে আরও কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবু কালাম জানান, প্রায় এক বছর আগে হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাকের কাগজ পান তিনি। দেশে ফিরে জানতে পারেন, তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তিনি দাবি করেন, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে দীর্ঘদিন তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন স্ত্রী।
এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলে বিচার চাইলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তার। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে আবু কালামের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজিনা আক্তার। তিনি বলেন, “আমাদের দাম্পত্য জীবনে বনিবনা ছিল না। ১৪ বছর সংসার করেও সন্তান হয়নি। চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত নানা সমস্যার কারণে আমি তালাক দিয়েছি। পরে এক বছর আগে নতুন করে বিয়ে করেছি।”
তানজিনা আরও দাবি করেন, আবু কালামের টাকা দিয়ে তার নামেই একাধিক জায়গা কেনা হয়েছে এবং নিজের জমানো অর্থ ও স্বর্ণ বিক্রি করেও তিনি সম্পদ করেছেন।
এদিকে স্থানীয়ভাবে তালাকের বৈধতা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে অর্পণ করা থাকলে তবেই তিনি স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এছাড়া তালাক কার্যকরের জন্য নির্ধারিত নিয়মে নোটিশ প্রদান ও নিবন্ধনের বিধান রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন