যোগদানের মাত্র সাত দিনের মাথায় মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জারি করা আদেশে মৌলভীবাজারের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামকে জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করে আগামী ১৬ মে’র মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদেশে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
জানা যায়, সম্প্রতি মো. রিয়াজুল ইসলাম মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। কারণ সাধারণত একটি জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্বকাল তুলনামূলক দীর্ঘ সময়ের হয়ে থাকে। সেখানে মাত্র সাত দিনের মাথায় প্রত্যাহারের ঘটনা খুবই বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, “আড়াই কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে বদলি হয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম।” যদিও এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তবে অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের অভ্যন্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দায়িত্বভার কার কাছে অর্পণ করা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ঘটনাটি এখন জেলার অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষ।
মন্তব্য করুন