পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আপস মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ গ্রহণের পরও মামলা দায়েরের অভিযোগে পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) সদস্য ফরিদুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ মে দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ৬ বছরের শিশু পাপড়ী রানী নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা মহাসড়ক অবরোধ ও ট্রাক ভাঙচুর করে। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলাম।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনার একপর্যায়ে আপসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, ইউপি সদস্য উমাপদ রায়ের মাধ্যমে স্থানীয় চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতে রাতের বেলায় ৩৭ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং আরও অর্থ পরিশোধের কথা ছিল।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা গ্রহণের একদিন পরই দেবীগঞ্জ থানায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০–৬০ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ওই ডিএসবি সদস্য।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্য উমাপদ রায় বলেন, “মামলা হবে না বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে মামলা হওয়ায় আমরা হতবাক হয়েছি।”
অন্যদিকে স্থানীয় চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় জানান, মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে মামলা হওয়ায় বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ মো. মোক্তারুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর ফরিদুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন