মাগুরায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। তার কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহের উচ্চারণ রয়েছে, যার কারণে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি আরও বলেন, নজরুল আমাদের জাতীয় কবি এবং তার সাহিত্যকর্ম জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভার আয়োজন করে মাগুরা জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমী। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী।
সংস্কৃতি মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, নজরুল বাংলা সাহিত্যকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছেন। তিনি বাংলা কবিতায় আরবি ও ফারসি শব্দের সফল ব্যবহার করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তার সাহিত্যকর্মে রয়েছে সাম্য, মুক্তি ও মানবিক চেতনার শক্তিশালী প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, নজরুল শুধু কবিতাই নয়, গান, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও গল্পসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
প্রধান আলোচক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেন, বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুলের উপস্থিতি রয়েছে। তার লেখা বিদ্রোহী কবিতা বিশ্বসাহিত্যে এক যুগান্তকারী সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃত। দারিদ্র্যের কারণে তিনি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করতে না পারলেও জীবনের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দেন এবং যুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালে কলকাতায় ফিরে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তাকে ব্যাপক খ্যাতি এনে দেয়।
তিনি আরও বলেন, নজরুল সাম্যবাদী চেতনার কবিতা, ইসলামী গান, শ্যামা সংগীত, গজলসহ বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য ও সংগীত রচনা করে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তার সৃষ্টিশীলতা আজও বাঙালি সমাজে অনুপ্রেরণার উৎস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এবং মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আলফাজ উদ্দিন।
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন মাগুরা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব কিশোর এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল। বক্তারা নজরুলের সাহিত্য ও চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংস্কৃতি মন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ২০ জন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তির মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। পরে রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা মনোজ্ঞ নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
মন্তব্য করুন