পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম ও অবহেলিত জনপদে মানবতার সেবায় প্রায় দুই দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকার বাসিন্দা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক লায়ন্স সাইফুদ্দিন জালালি। তাঁর উদ্যোগ, অর্থায়ন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে আলীকদম ও লামা উপজেলার হাজারো দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য এবং জীবনমান উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ বছরে তাঁর পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত ছয়টি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া ছানি ও চোখের বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত ৩৫০ জন রোগীর বিনামূল্যে সফল অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা অনেকের জীবনে নতুন আলোর দিশা এনে দিয়েছে।
শিক্ষার প্রসারে আলীকদম ও লামা উপজেলার ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০টি এতিমখানায় নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।
রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র ও পাহাড়ি নারীদের জন্য থামি বিতরণের পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত ২০ হাজার কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে ৬৯টি রিংওয়েল স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও ৫৫টি পুরোনো রিংওয়েল সংস্কারের কাজ চলছে। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত ওরস্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ৭৫টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৫৭০ জন শিশুর সুন্নতে খতনা সম্পন্ন করা হয়েছে।
রেপারপাড়া স্কুলসংলগ্ন এলাকায় নতুন রিংওয়েল স্থাপনের পর স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসেম বলেন, “এখন প্রতিদিন অনেক মানুষ এখান থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে আমাদের দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট অনেকটাই দূর হয়েছে।”
বাঘের ঝিরি এলাকার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল। নতুন রিংওয়েল স্থাপনের ফলে তাদের ভোগান্তি কমেছে এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও হ্রাস পেয়েছে।
সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত জুহুরা বেগম বলেন, “এখন আমি নিজে সেলাইয়ের কাজ করে আয় করতে পারব। এটি আমার পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।”
এছাড়াও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ এবং অসহায় পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
স্থানীয় সুধীজন ও সুবিধাভোগীরা মনে করেন, লায়ন্স সাইফুদ্দিন জালালির দীর্ঘদিনের মানবিক উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি তাঁর এই সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন