পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকুয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রাসেল ফকির (২৮) দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে দুই হাঁটুতে পানি জমে থাকার জটিল রোগে ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি কোনো ধরনের শ্রমমূলক কাজও করতে অক্ষম। ফলে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল ফকিরের দুই হাঁটুতে পানি জমে রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি মাসে তাকে একটি ইনজেকশন নিতে হয়, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার টাকা। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
রাসেল ফকির বলেন, “দিন চলে না, চিকিৎসা করমু কীভাবে? ভাত খাওয়ার টাকাই জোটে না। একটু সুস্থ বোধ করলে উসওয়া জাল দিয়ে মাছ ধরি। সেই মাছ বিক্রি করে কোনোভাবে সংসার চালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু বেশিরভাগ সময় অসুস্থতার কারণে ঘরেই পড়ে থাকতে হয়।”
অভাব-অনটনের সংসারে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন তিনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার অভাবে তার শারীরিক অবস্থারও দিন দিন অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
রাসেল ফকিরের এই করুণ অবস্থায় এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের প্রতি তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এই অসহায় যুবক। পাশাপাশি তার পরিবারও ফিরে পাবে বেঁচে থাকার নতুন আশা।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মোঃ ইজাজুল হক বলেন, “আমার বরাবর একটি আবেদন দিলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।”
রাসেল ফকিরের অসহায় জীবনসংগ্রাম আজ মানবতার কাছে এক নীরব আবেদন। সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে তার সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়ার শেষ ভরসা।
মন্তব্য করুন