খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ‘কোলাবরেটিভ রিসার্চ ইন সোশ্যাল সায়েন্স: থিওরিস, অপরচুনিটিস অ্যান্ড প্র্যাকটিক্যাল মেথডোলজিস’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বক্তারা বর্তমান সময়ের গবেষণায় আন্তঃবিভাগীয় ও বহুমাত্রিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গবেষণার ফলাফলকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি লেকচার থিয়েটারে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, গবেষণার ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত এবং মানসম্পন্ন গবেষণা পরিচালনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সময় ও আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একটি ডিসিপ্লিনের সঙ্গে অন্য ডিসিপ্লিনের সমন্বয়ে পরিচালিত গবেষণাই কোলাবরেটিভ রিসার্চ। বর্তমান বিশ্বে একক গবেষণার পাশাপাশি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি গবেষণার গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও ফলাফল সমাজ উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, গবেষণার সঙ্গে নানামুখী চ্যালেঞ্জ জড়িত থাকলেও এর মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ও জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখা। একজন গবেষকের মানসিকতা হতে হবে অনুসন্ধিৎসু, উদার ও উদ্ভাবনী। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে গবেষণার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, কোলাবরেটিভ রিসার্চবিষয়ক এ ধরনের কর্মশালা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কার্যকর গবেষণা-ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক শেখ শারাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মোছা. তাসলিমা খাতুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ফাহমিদা আক্তার অনি এবং সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া তাহসিন সুহা।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত তিনটি পৃথক সেশনে কোলাবরেটিভ রিসার্চের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা কোলাবরেটিভ ও মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি গবেষণার বিভিন্ন ধারণা ও পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন এবং ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন